আমিরুল ইসলাম কবির:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভাগ্নি জামাই ভুয়া মালিক সাজিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মামা শ্বশুরের ভূমি অধিগ্রহণের ১৮ লাখ উত্তোলন করে আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রতিবাদে বুধবার ২৫শে ফেব্রুয়ারী পলাশবাড়ী পৌর শহরের দক্ষিণ বাস স্ট্যান্ডে দুপুরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন,পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে ভুক্তভোগী ছাইদুর রহমান।
তিনি জানান,আমি অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভ নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এলেঙ্গা- হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আমার মালিকানাধীন ০.৬২৫ (শূন্য দশমিক ছয় দুই পাঁচ) শতক জমি হরিণমারী মৌজায় সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়। উক্ত জমির এলএ কেস নং ১১/২০১৯-২০২০ এবং জারির নোটিশ নং ৫৯০১। অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ আমার প্রাপ্য ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়,আমার ভাগ্নি জামাই মো. শামসুল আলম,পিতা: মৃত কওছর উদ্দিন আহমেদ,গ্রাম: হরিণমারী, থানা ও পোস্ট: পলাশবাড়ী, জেলা: গাইবান্ধা-আমাকে না জানিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বলে আমি অভিযোগ করছি। আমি জানতে পেরেছি যে,তিনি পলাশবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও জনৈক এক দলিল লেখকের সঙ্গে যোগসাজশে গত ১৫ই ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে একটি ভূয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তৈরী করেন। উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে আমাকে অবহিত না করে এবং আমার সম্মতি ব্যতীত অন্য কাউকে আমার পরিচয়ে হাজির করানো হয়ে থাকতে পারে বলে
আমার দৃঢ় সন্দেহ রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে আমার নামে ইস্যুকৃত ক্ষতিপূরণের চেক
উত্তোলন করেন এবং প্রায় আঠারো লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে আমি অভিযোগ করছি।
আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমি কখনও কাউকে এ ধরনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করিনি এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দেইনি।
অতএব,আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি,১) অভিযুক্ত মো. শামসুল আলমের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
২) ভূয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রণয়নে জড়িত দলিল লেখক, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
৩) আমার অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের সমুদয় অর্থ দ্রুত উদ্ধার করে আমাকে বুঝিয়ে দেয়া হোক। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশী।
সংবাদ সম্মেলনে পলাশবাড়ী উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমার কষ্টার্জিত সম্পদের অর্থ যেন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ না হয়,সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
লিখিত বক্তব্যকালে,সাথে ছিলেন, তারই ছোট ভাই বখতিয়ার রহমান ও প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ।।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.