জাকাতের হকদার যে ৮ খাত
পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জাকাত প্রদানের নির্দিষ্ট খাতগুলো হলো-
ফকির: যার সামান্য সম্পদ আছে কিন্তু নিসাব পরিমাণ মালের মালিক নয়।
মিসকিন: যার কিছুই নেই এবং অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত।
জাকাত আদায়কারী: ইসলামি রাষ্ট্র কর্তৃক জাকাত সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি।
চিত্ত আকর্ষণকারী: অমুসলিম বা নওমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে। (হানাফি মাজহাব মতে এটি বর্তমানে রহিত)।
দাস মুক্তি: বর্তমানে এ খাতটি কার্যকর নেই।
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি: যার নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা নেই।
ফি সাবিলিল্লাহ: আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্তি, দ্বীনি ইলম অর্জনকারী দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং হজের সফরে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া অসহায় হজযাত্রী। (সূত্র: দুররুল মুখতার: ৩/২৯৪)
মুসাফির: যার নিজের এলাকায় সম্পদ আছে কিন্তু সফর অবস্থায় বিপদগ্রস্ত হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন।
যাদের জাকাত দেওয়া যাবে না
ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ও আদ-দুররুল মুখতারসহ নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থের আলোকে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়-
অমুসলিম ও সচ্ছল ব্যক্তি: জাকাত কেবল মুসলিম দরিদ্রদের হক। এছাড়া যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে, তাকেও জাকাত দেওয়া যাবে না।
ধনীর নাবালক সন্তান: নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের নাবালক সন্তানকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়।
বনু হাশেম: রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বংশধর তথা বনু হাশেমের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য জাকাত গ্রহণ নিষিদ্ধ।
নিকটাত্মীয়: বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং নিজের ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের জাকাত দেওয়া যাবে না।
স্বামী-স্ত্রী: স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে জাকাত দিতে পারবে না।
(হিন্দিয়া: ১/১৮৮, তাতারখানিয়া: ৩/২০৬, দুররুল মুখতার: ৩/২৯৪-২৯৫)
মালিক বানিয়ে দেওয়া জরুরি
জাকাত আদায়ের মূল শর্ত হলো- দরিদ্র ব্যক্তিকে অর্থের ‘মালিক’ বানিয়ে দেওয়া (তামলিক)। যেহেতু মসজিদ-মাদরাসা, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল নির্মাণ কিংবা মৃত ব্যক্তির দাফনকার্যে কোনো ব্যক্তিকে একক মালিক বানিয়ে দেওয়া হয় না, তাই এসব খাতে জাকাতের অর্থ সরাসরি ব্যয় করলে জাকাত আদায় হবে না। (তাতারখানিয়া: ৩/১৯৮)
জরুরি মাসায়েল
আত্মীয়দের অগ্রাধিকার: আপন ভাই-বোন, চাচা-ফুপু বা মামা-খালা অভাবগ্রস্ত হলে তাদের জাকাত দেওয়া সাধারণ দরিদ্রের চেয়ে বেশি সওয়াবের কাজ। কারণ এতে দান এবং আত্মীয়তা রক্ষা—উভয় সওয়াবই পাওয়া যায়। (সূত্র- সুনানে নাসায়ি: ২৫৮২)
পণ্য কিনে দেওয়া: জাকাতের টাকা দিয়ে কাপড় বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনে দিলেও জাকাত আদায় হবে। (হেদায়া: ১/২০৬)
উপহার হিসেবে দেওয়া: জাকাত দেওয়ার সময় যাকে দেওয়া হচ্ছে তাকে ‘জাকাতের টাকা’ বলা জরুরি নয়; বরং মনে মনে জাকাতের নিয়ত রেখে উপহার হিসেবে দিলেও তা আদায় হয়ে যাবে। (বাদায়ে: ২/৪৯)
জাকাত আল্লাহর নির্ধারিত আমানত। সঠিক খাত ও নিয়ম মেনে দেওয়া প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের ফরজ।
