আল ইমরান:
হান্ডস্যাম মানি' যে দিতে পারবে, প্রতিবেদন তারই পক্ষে যাবে"- এমনই অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বাগিয়া গ্রামে সার্ভেয়ারের এমন বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যের প্রতিবাদে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
জানাযায়, কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের ২২ নং বাগিয়া মৌজার বিআরএস ৫১৯ নং খতিয়ানের ১১৫৯ নং দাগের ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে ওই গ্রামের মো. ফায়েক শেখ ও পার্শ্ব জমি মালিক মো. ইয়ার আলী শেখের মধ্যে প্রিয়েমশন মামলা চলছিল। এলাকার পরিবেশ সুন্দর ও শৃঙ্খলা রাখতে ১৪ গ্রামের গন্যমান্য লোকের সালিশের মাধ্যমে বাদী এবং বিবাদীর সম্মতিতে উক্ত যায়গায় "বাগিয়া মধ্যপাড়া নুরানি মক্তব" নামে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।
ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরীর ফলে মো. ফায়েক শেখ উক্ত মামলা পরিচালনা থেকে শরে দাড়ান। সেই সুযোগে মো. ইয়ার আলী শেখ এক তরফা রায় নিয়ে মালিকানা পেয়ে যান। মো. ফায়েক শেখ আদালত থেকে জমাকৃত টাকাও ফেরত পায়।
অন্যদিকে মো. ফায়েক শেখ তার পূর্ব দলিল বরাবরে তার চার মেয়ে সীমা, আয়শা, মিতু ও লাকী মেয়েদের নামে দলিল করে দেয়। মক্তব কমিটি যখনই মক্তব সংস্কার করতে যায় তখনই লাকী বেগম আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞ আদালত দখল ও জমি প্রমাণ তদন্তের জন্য কাশিয়ানী সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে তদন্ত পাঠায়। তদন্তের দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহিম খলিল সুযোগ পেয়েই মক্তব কতৃপক্ষের কাছথেকে দুহাজার টাকা হাতিয়ে নেন। তেল খরচ বাবদ। আবারও দাবি যানিয়ে মক্তব কতৃপক্ষকে জানান, পক্ষে প্রতিবেদন পেতে হলে সামনে 'হ্যান্ডস্যাম মানি' দিতে হবে। তা না হলে বিপক্ষে প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করা হবে।
মক্তব কতৃপক্ষ ও এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, আমরা তাকে 'হ্যান্ডস্যাম মানি বা টকা' দিতে পারিনাই বলে সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহিম খলিল বিপক্ষের সাথে হাত মিলিত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মক্তবের বিপক্ষেই প্রতিবেদন প্রেরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.