
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং মানবিক বিপর্যয় নিয়ে সরব হচ্ছেন বিশ্বনেতারা। তারই অংশ হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র গাজার চলমান যুদ্ধ অবসানে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়। এমনকি তিনি এ বৈঠককে আখ্যা দিয়েছেন ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বৈঠক হিসেবে।
বৈঠকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। ট্রাম্প বলেন, আমরা গাজার যুদ্ধ থামাতে চাই। আমরা এটা শেষ করব, হয়তো এখনই শেষ করতে পারব। তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধ এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে অবিলম্বে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
গাজায় বন্দি থাকা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, আমরা ২০ জন জিম্মিকে ফিরিয়ে আনতে চাই। ৩৮ জন মৃতদেহও ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের এ কাজ এখনই করতে হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ থামানো শুধু জরুরি নয়, এটি মানবিক দায়। আমাদের আলোচনায় বসতে হবে। সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বৈঠক শেষে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানান, আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তবে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই বৈঠক নিয়ে একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক। আঙ্কারা ইতোমধ্যে ইসরাইলের হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে এবং দেশটির সঙ্গে সবধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাতিল করেছে। তুরস্কের পক্ষ থেকে একাধিকবার গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। ওই বক্তব্যে ইন্দোনেশীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু ফিলিস্তিন নয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণেও ট্রাম্প বলেন, আমাদের এখনই গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে আমাদের আলোচনার টেবিলে আসতে হবে। আমরা আর দেরি করতে পারি না।
তবে হামাসকে নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান ছিল আগের মতোই কঠোর। তিনি অভিযোগ করেন, হামাস বারবার যৌক্তিক শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও হামাসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ বরাবরই নাকচ করা হয়েছে। বরং তারা অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি আটকে দেওয়ার মূল বাধা হচ্ছে ইসরায়েলনিজেই।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এটি হামাসের জন্য একটি পুরস্কারস্বরূপ হয়ে যাবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে এমন কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চায় না, যা হামাসের অবস্থানকে শক্তিশালী করে তুলবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.