
গাজা যুদ্ধকে ‘চূড়ান্তভাবে শেষ’ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৫ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনারা গাজার এই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি দেখতে পাবেন।’
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর আগেও তিনি যুদ্ধ শেষের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার সময়েই ইসরায়েলকে দেওয়া হয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা। অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে ইসরায়েলকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এছাড়া ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোকেও বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের শুরুতে গাজা উপত্যকা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার এ ধরনের অবস্থান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে।
এমন সময় ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দিলেন, যখন গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত হচ্ছে অসংখ্য সাধারণ মানুষ। সোমবারই ইসরায়েলের বিমান হামলায় গাজার নাসের হাসপাতালে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সেখানে পরপর দুটি বিস্ফোরণে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন সাংবাদিক, যাদের মধ্যে রয়টার্স ও আল জাজিরার কর্মরত সংবাদকর্মীরাও রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, প্রথম বিস্ফোরণের পর যখন উদ্ধারকর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ছুটে যান, তখনই দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। ওই মুহূর্তে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হামলার লাইভ সম্প্রচার চলছিল। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দ্বিতীয় বিস্ফোরণে মানুষ ছিটকে পড়ছে, সাংবাদিকরা আহত অবস্থায় পড়ে আছেন, এবং উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
এই হামলাগুলো যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে মন্তব্য করেছে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা। তারা বলছে, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং সংবাদকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত সমাপ্তির’ ঘোষণা ঠিক কী ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে—তা স্পষ্ট করেননি তিনি। বরং অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, তার এমন বহু প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কার্যকর হয়নি।
বর্তমানে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন। খাবার, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। ইসরায়েলি অবরোধে আটকে আছে আন্তর্জাতিক সাহায্য। সূত্র: আল জাজিরা
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.