নুর মোহাম্মদ, সুনামগঞ্জ।।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসন ঘিরে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়ে গেলেও ভোটার ও স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনোযোগ দিচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান চৌধুরীর দিকে। জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি এখন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের শীর্ষে অবস্থান করছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই মিজানুর রহমান রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এই আত্মত্যাগ আজও স্থানীয় রাজনীতিতে স্মরণীয়। স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা মনে করেন, আন্দোলনের মাঠে জীবন বাজি রেখে যিনি লড়েছেন, তিনি সংসদেও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় অটল থাকবেন।
বিএনপির দুঃসময়ে ছাতক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি রাজনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ দেন। চেয়ারম্যান থাকাকালে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা এবং সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে ব্যাপক আস্থা অর্জন করিয়েছে। একজন ভোটার বলেন, “চেয়ারম্যান থাকাকালে রাত-দিন মানুষের সমস্যা সমাধানে ছুটে যেতেন মিজান ভাই। এবার তিনি জাতীয় সংসদে গিয়ে আমাদের এলাকার উন্নয়ন করুন।”
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ৯৬ হাজারের বেশি ভোট পান তিনি। ফলাফল পরবর্তীতে পাল্টে গেলেও অল্প সময়ে এত ভোট পাওয়া তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে তাঁর প্রতি জনগণের আস্থা অটুট।
করোনা মহামারীর সময় তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাতক ও দোয়ারাবাজারের প্রত্যন্ত গ্রামে ত্রাণ বিতরণ করেন। অসুস্থ মানুষদের ওষুধ পৌঁছে দেন। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায়ও নিজে নৌকায় করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান। একজন বন্যাদুর্গত বলেন, “বন্যায় ঘরবাড়ি ভেসে গেলে অনেকেই আসেনি, কিন্তু মিজান ভাই খাবার ও ওষুধ নিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।”
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিজানুর রহমান আলোচনার শীর্ষে। তরুণ ভোটাররা তাঁকে প্রাণবন্ত, আধুনিক ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে দেখছেন। ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাঁর জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বন্যা প্রতিরোধ ও অবকাঠামো উন্নয়ন—এসব বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা মিজানুর রহমানকে ঘিরে। একজন তরুণ ভোটার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, মিজান ভাই সংসদে গেলে আমাদের এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাঠ পর্যায়ে মিজানের জনপ্রিয়তা প্রমাণিত। তবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াটা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। একজন বিশ্লেষক বলেন, “সুনামগঞ্জ-৫ আসনের ভোটের অঙ্ক স্পষ্ট। জনগণ এখন মিজানের দিকেই ঝুঁকছে।”
গ্রামে-গঞ্জে মানুষের পাশে থাকা, নিয়মিত সমস্যার সমাধান এবং তরুণ ভোটারদের আস্থা অর্জনের কারণে মিজানুর রহমান চৌধুরীর নির্বাচনী সম্ভাবনা উজ্জ্বল। স্থানীয়রা আশা করছেন, মনোনয়ন পেলে তিনি সুনামগঞ্জ-৫ আসনের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.