অনলাইন ডেস্ক।।
গত ফেব্রুয়ারিতে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকে দেশটিতে সেনাবিরোধী আন্দোলনে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়াল।
আন্দোলনে মৃত্যুর হিসেব রাখা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন অব পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) নামের এক অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন।
অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা জান্তা সরকারের কোনো কর্মকর্তা অবশ্য এই বিষয় নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে এর আগে, এএপিপি’র প্রতিবেদন অতিরঞ্জিত বলে জানিয়েছিল সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষ।
সেনাবাহিনী জানায়, আন্দোলনে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যও নিহত হয়েছেন। তবে তাদেরকে গণনায় আনেনি এএপিপি।
এএপিপি’র মতে, আন্দোলনে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে ১০০১ জন মারা গেছেন। এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সচিব টেটে নেইং বুধবার রয়টার্সকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১০০১ জন নিরীহ লোক প্রাণ হারিয়েছেন। তবে সত্যিকারের সংখ্যা আরও বেশি।’
মিয়ানমারে চলমান সহিংস আন্দোলনে হাজার হাজার লোককে আটক করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। তাদের ওপর বেশ জঘন্যভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। তারপরও থেমে নেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলন।
অভূত্থানের পর থেকে প্রতিদিন মিয়ানমারের সাধারণ জনগণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে। হরতালের পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে চলছে বিদ্রোহ। এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি।
তার মধ্যে কোভিড-১৯ মহামারি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে মারা যাচ্ছে অনেকে। বড় শহরগুলোতে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের অভাব। হাসপাতালগুলোতে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি।
গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচন অবৈধ দাবি করে ফেব্রুয়ারিতে এক সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে নির্বাচিত সরকার ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টির নেত্রী অং সান সুচিকে গ্রেপ্তার করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। দেশটির নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দলও সেনাবাহিনীর এই ক্ষমতাগ্রহণকে অবৈধ হিসেবে দাবি করে। তবে এই ব্যাপারে নিজেদের মতামত থেকে সরে আসছে না জান্তা সরকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.