করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের সংকটাপন্ন ৩৪টি দেশে ৩২ লাখের মতো মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি-আইআরসি। সেই সঙ্গে দেশগুলোতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১০০ কোটি!
আফগানিস্তান, সিরিয়ার মতো যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলোর পাশাপাশি দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলো করোনায় বেশি ভুগবে বলে আইআরসি’র এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোতে রাখা হয়েছে গ্রিস ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশকেও।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজের তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে ‘ওয়ান সাইজ ডাজ নট ফিট অল: মিটিগেটিং কভিড-১৯ ইন হিউম্যানিটেরিয়ান সেটিং’ শিরোনামে প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে এসব শঙ্কার কথা জানায় আইআরসি।
আইআরসি’র প্রধান নির্বাহী ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেছেন, “এই সংখ্যাগুলোকে সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। মহামারি এখনো ভঙ্গুর ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে প্রকট আকারে দেখা যায়নি।”
ভয়াবহ এই সংকট মোকাবিলায় দাতা দেশগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তার হাত বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন মিলিব্যান্ড, “মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে যেকোনো বাধা দূর করার জন্য সরকারগুলোকে অবশ্যই এক হয়ে কাজ করতে হবে।”
করোনা মোকাবিলায় সংকটাপন্ন দেশগুলোর নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইআরসি। উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ সুদানকে তুলে ধরেছে তারা। আফ্রিকার দেশটির হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর ও ২৪ ঘণ্টার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট আছে মাত্র ২৪টি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কভিড-১৯ এমন একটি ভাইরাস যার ব্যাপারে এখনো অনেক কিছু অজানা। এটা পরিষ্কার যে, এর প্রভাব প্রথমে আক্রান্ত হওয়া ধনী দেশগুলো ভিন্ন হবে।”
এই সংকট মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোতে লকডাউনের মতো পদক্ষেপে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যের সংখ্যা আরও বাড়বে; বাড়বে খাদ্য সংকট।
আইআরসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে ৮২ কোটি মানুষ খাদ্য অনিশ্চয়তায় ভুগতে পারে। প্রায় ৩৬টি দেশে দেখা দিতে পারে দুর্ভিক্ষ। সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় আফগানিস্তানে এরই মধ্যে খাদ্য সংকট শুরু হয়ে গেছে বলে আইআরসি জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.