ইস্তাম্বুলের তাকসিম স্কয়ারে মসজিদ উদ্বোধন করলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান।
২০১৩ সালে এ স্থাপনার পরিকল্পনা প্রকাশ হলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বলা হচ্ছিল, ধর্মীয় স্থাপনাটি তুরস্কের ‘সেক্যুলার ভাবমূর্তি’ ধ্বংস করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন, মসজিদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেকে ময়দানে নামাজে অংশ নেন।
সেক্যুলার টার্কিশ রিপাবলিকের ঐতিহ্যবাহী জন সমাগমের স্থানে মসজিদটি তৈরি হয়েছে।
৩০ মিটার উঁচু গম্বুজ সংবলিত মসজিদের কারণে এখন আকারে বামন হয়ে গেছে তাকসিম স্কয়ারে থাকা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক প্রতিষ্ঠিত প্রজাতন্ত্রের স্মারকস্তম্ভটি।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে এরদোয়ান বলেন, মসজিদটি এখন ইস্তাম্বুলের প্রতীকগুলোর মধ্যে বিশিষ্ট স্থান দখল করে নিয়েছে। আল্লাহ চাইলে কেয়ামত পর্যন্ত এটি থাকবে।
তাকসিম স্কয়ারে কোনো ধরনের ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের আপত্তি ছিল, তাদের ওপর বিজয় হয়েছে বলে দাবি করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
পুরোনো এক ভিডিওতে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালে ইস্তাম্বুলের মেয়র থাকাকালে একটি ভবনের ওপর দিয়ে স্থানটির দিকে আঙুল নির্দেশ করে বলছেন, এখানে একটি মসজিদ নির্মিত হবে।
অটোমান ঐতিহ্য ও হাল আমলের নকশার যুগলবন্দী ঘটেছে এ মসজিদে, ২৬ হাজার ৭১৬ বর্গফুট জায়গায় একসঙ্গে চার হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন। মসজিদের ভেতর একটি সম্মেলন কক্ষ ও প্রদর্শনী হল আছে।
২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে চার বছরে তা শেষ হয়।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তুরস্কের সেক্যুলার মেজাজের ব্যত্যয় ঘটানোয় অনেকেই এরদোয়ানের সমালোচনা করে থাকেন।
তবে ১৯৫০ সালে সর্বপ্রথম ইস্তাম্বুলের তাকসিম স্কয়ারে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া করা হয়। এরপর ১৯৫২ সালে ‘তাকসিম মসজিদ বিল্ডিং অ্যান্ড সাসটিনেন্স অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু ১৯৮০ সালের অভ্যুত্থানের পর এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
গত বছরের জুনে ৮৬ বছর আগে জাদুঘরে রূপান্তরিত আয়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনেন এরদোয়ান।
