মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর সাবেক এক জেনারেলকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও আরও কয়েকজন মন্ত্রীকে আটকের পর এই ঘোষণা দেওয়া হলো।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিচালিত মায়াওয়াদ্দি টিভিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর: এএফপি।
এতে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা নিরীক্ষা ও অনুমোদনে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত ২০০৮ সালের সেনা সমর্থিত সংবিধান অনুযায়ী দেশের আইন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর প্রধানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাবেক জেনারেল উ মিন্ট শোয়ে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি-এনএলডি নেতৃত্বাধীন সরকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সোমবার সকালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই এনএলডি থেকে ক্ষমতা নেয় সেনাবাহিনী।
সেনা সদস্যরা ইয়াঙ্গুনের সিটি হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সিটি হল চত্বরে সেনাবাহিনীর পাঁচটি ট্রাক রয়েছে। বেসামরিক যারা কাজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, তাদের সেনাসদস্যরা ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে এনএলডি ৮৩ শতাংশ আসন পায় যাকে সু চির বেসামরিক সরকারের প্রতি সর্বসাধারণের অনুমোদন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গত ২০১১ সালে সামরিক শাসন শেষ হওয়ার পর এটি দ্বিতীয়বার নির্বাচন ছিল মাত্র।
তবে সামরিক বাহিনী নির্বাচনের ফলকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারা সুপ্রিম কোর্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং ইলেক্টোরাল কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।
সম্প্রতি সামরিক বাহিনী নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পর থেকে সামরিক অভ্যুত্থানের শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
মিয়ানমার বার্মা নামেও পরিচিত যা ২০১১ পর্যন্ত শাসন করেছে সামরিক বাহিনী। সু চি অনেক বছর ধরে গৃহবন্দী ছিলেন।
সোমবার নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী অধিবেশন স্থগিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
গত সপ্তাহ সামরিক বাহিনী সংবিধান মেনে চলার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। তারপরও এটাকে পুরো মাত্রায় সামরিক অভ্যুত্থান বলেই মনে হচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় আগে সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক- মেহেদী হাসান
Copyright © 2026 Livenews24bd সত্যের সাথে প্রতিদিন. All rights reserved.