
রিপোর্টঃ রিয়াজুল ইসলাম কাওছার,ইতালি থেকে:
আসন্ন সরকার গঠনে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির ত্যাগী নেত্রী ও রাজপথের লড়াকু সৈনিক হেলেন জেরিন খানকে দেখতে চান ইতালিতে বসবাসরত মাদারীপুরের সাধারণ প্রবাসী ও স্থানীয় বিএনপি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কেবল আঞ্চলিক জনপ্রিয়তাই নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং মিডিয়ায় দলের পক্ষে জোরালো অবস্থানের কারণে বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় আটক হয়েছেন এবং প্রায় ১৪টি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
হেলেন জেরিন খানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। ১৯৯১ সালে ইডেন কলেজ ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি জাতীয় ছাত্র রাজনীতিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি এবং মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালে এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য, শান্ত অথচ দৃঢ় উপস্থাপনা এবং শহীদ জিয়ার আদর্শ ও তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা সাবলীলভাবে তুলে ধরার জন্য তিনি জাতীয়ভাবে সমাদৃত। মিডিয়ায় তার উপস্থিতি দলের নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন।
এছাড়া সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ (রাজৈর–সদর একাংশ) আসন থেকে তিনি দলীয় মনোনয়নের জোরালো দাবিদার ছিলেন। বিশেষ রাজনৈতিক সমীকরণে মনোনয়ন না পেলেও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে সারাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিএনপির মাদারীপুরের ইতালি প্রবাসী তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, দুঃসময়ের এই পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
প্রবাসীরা এই প্রতিনিধি কে বলেন “হেলেন জেরিন খান একজন অত্যন্ত বিনয়ী ও আদর্শিক মানুষ। তার মতো উচ্চশিক্ষিত, যোগ্য ও লড়াকু নেত্রীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হলে মাদারীপুরবাসী তথা প্রবাসীরা বহুমাত্রিক সহায়তা পাবেন।”
হেলেন জেরিন খান এই প্রতিনিধি-কে বলেন, “আমি পদের লোভে রাজনীতি করি না। শহীদ জিয়ার আদর্শ,বেগম জিয়ার ভালোবাসা ও দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বই আমার মূল শক্তি। মাদারীপুর-২ আসনের মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তার ঋণ শোধ করতে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই। দল যদি আমাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়, তবে আমি রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অবহেলিত মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ”।
