A picture taken on May 8, 2021 shows a sign of the World Health Organization (WHO) at the entrance of their headquarters in Geneva amid the Covid-19 coronavirus outbreak. (Photo by Fabrice COFFRINI / AFP)

জুন-জুলাই মাসে কোভ্যাক্সের টিকার ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, এ কারণে টিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত হবে।
সংস্থার কোভ্যাক্সের দায়িত্ব পালনকারী ব্রুস আইলওয়ার্ড জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের আরও ২০ কোটি ডোজ প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো এ পর্যন্ত ১৫ কোটি ডোজ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে এতে সংকট কাটবে না।
আইলওয়ার্ড বলেন, ‘আমরা ডোজগুলো তাড়াতাড়ি না পেলে টিকা দেওয়ার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবো। কারণ, আমরা এখনো যথাযথ অবস্থায় নেই। আমাদের হাতে যথেষ্ট ডোজ নেই।’
দুটি সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত জুন-জুলাই মাসে টিকার দেওয়ার জন্য খুব কম অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর ফলে আমাদের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে।
‘দ্বিতীয়ত আমরা যদি বিশ্ব জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশকে চলতি বছর টিকা দিতে চাই, তাহলে এখন থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আরও ২৫ কোটি লোককে টিকার আওতায় আনতে হবে’ যোগ করেন ডব্লিউএইচও’র এই কর্মকর্তা।
বিশ্বে বিশেষত নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে টিকার ন্যায্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কোভ্যাক্স গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২৯টি দেশে কোভ্যাক্স আট কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে।
গভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপাপর্ডনেস ইনোভেশান্স-এর সহায়তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে পরিচালিত কোভ্যাক্স যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে টিকার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
কোভ্যাক্সে ৯৭ শতাংশ টিকা সরবরাহ করছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। বাকিটা করছে ফাইজার-বায়োএনটেক।
আস্ট্রাজেনেকা ডোজের উৎপাদনকারী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট কোভ্যাক্সের মূল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে নয়াদিল্লি টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে কোভ্যাক্স সংকটে পড়ে।
তবে সেরাম বলছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা কোভ্যাক্সে সরবরাহ শুরু করতে পারবে বলে আশা করছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বে এ পর্যন্ত দুইশ’ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে, যাকে মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু এর ৩৭ শতাংশ দেওয়া হয়েছে উন্নত দেশগুলোতে, যেখানে বিশ্ব জনসংখ্যার ১৬ শতাংশের বসবাস।
