1. sarifhafiz48@gmail.com : livenewsdesk desk : livenewsdesk desk
  2. mehedihasan.mhs078@gmail.com : Arif Molla : Arif Molla
  3. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud :
  4. livenewsbd24@gmail.com : Mehedi Hasan : Mehedi Hasan
১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর ‘লকডাউন’! - Livenews24
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বাইডেনের ফোনালাপ, সংকট সমাধানের আশা ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মাদারীপুরের ৩০ গ্রামে ঈদ উদযাপন ঈদের দিনও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা বার্সাকে ৪ পয়েন্ট পেছনে ফেলে শিরোপার আরও কাছে অ্যাটলেটিকো এক মঞ্চে ৫ উপস্থাপক ঈদের যত বিশেষ অনুষ্ঠান ক্যারিয়ার সেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে হাসান-আফ্রিদি-নোমান বুফনের পেনাল্টি সেভ, রোনালদো-দিবালার গোলে জুভদের জয় টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে পিএসজি ফল খা্ওয়ার কতক্ষণ পর পানি পান করবেন? গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত, নারী-শিশুসহ নিহত ৬৯ টিকাগ্রহীতাদের ৯৭ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি: আইইডিসিআর আরও ৩ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরা যাবে

১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর ‘লকডাউন’!

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৪১ শেয়ার এবং সংবাদটি পড়েছেন।

বিশেষ প্রতিনিধি।।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে উচ্চ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এবার সাত দিনের ‘পূর্ণ লকডাউন’ বা সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে এ লকডাউন কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হবে। এবারের লকডাউনের জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে। আগামী রবিবার পূর্ণ লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তবে কভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ১৪ দিনের লকডাউন দেওয়ার জোর সুপারিশ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে ১৪ দিনের পূর্ণ লকডাউনের জন্য। ফলে সাত দিনের লকডাউন ঠিক থাকে নাকি ১৪ দিনের হবে সেটি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের ওপর।

একইভাবে সরকারের ‘পূর্ণ লকডাউন’-এর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সাত দিনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রবেশের এক মাস পার হয়েছে। এখনো উচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা নাজুক। সরকারের পক্ষ থেকে জারিকৃত চলমান বিধিনিষেধ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১৪ দিনের লকডাউনের পর আবারও পর্যায়ক্রমে লকডাউন বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. বে-নজির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সর্বাত্মক লকডাউন দিতে হলে সরকারকে কঠোরভাবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাত দিনের লকডাউনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বরং বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে একবারে ১৪ দিনের লকডাউন ঘোষণা করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, এ সময় মানুষ যাতে লকডাউন মানতে পারে সেজন্য সর্বাত্মক সহযোগিতাও করা উচিত।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ চালানো উচিত। কারণ সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি বুঝতে ন্যূনতম দুই থেকে তিন সপ্তাহ দরকার। এরপর সংক্রমণ স্থিতিশীল হলে আর সর্বাত্মক লকডাউন দরকার হয় না। যদি তা না হয়, তাহলে সরকারকে দুই সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউনে যেতেই হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানুষ বাঁচাতে লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই। লকডাউনের বিষয়ে রবিবার (আগামীকাল) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এবারের লকডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে।’

চলমান বিধিনিষেধের মতো ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন কেউ যদি না মানে কিংবা এবারও যদি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা থেকে বিক্ষোভ আন্দোলন আসে তাহলে কী করবেন এ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বাত্মক লকডাউন বলতে যে চিন্তাটি করা হয়েছে সেটা হলো শুধু জরুরি সেবা ছাড়া আর কোনো কিছুই চলবে না। এখন যেমন কিছু কিছু বিষয়ে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে, সেটি হয়তো তখন আর করা হবে না। দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরাও এই পরামর্শ দিয়েছেন।’

কারিগরি কমিটি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ১৪ দিনের লকডাউনের সুপারিশের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দেবেন সেভাবেই ঘোষণা আসবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কারফিউর মতো কঠোর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।’

জানা গেছে, গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেশের মহামারী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বৈঠক করেছিলেন এবং সেদিনই তারা চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধের নামে যা চলছে তা শুধুই ‘আত্মঘাতী’ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ এ ধরনের ধাক্কা সামলাতে পারবে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এমএ ফয়েজ বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক ও বাস্তবসম্মত ছিল না। সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তা করা যেমন লকডাউনের সময় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা হিসেবে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া।’

এছাড়া গতকাল শুক্রবার নিজের সরকারি বাসভবনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার, সঙ্গে বাড়ছে জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতা। এ অবস্থায় চলমান এক সপ্তাহের লকডাউনে জনগণের উদাসীন মানসিকতার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায়, সরকার জনস্বার্থে ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।’

এদিকে কভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ১৪ দিনের লকডাউনের সুপারিশ করেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় লকডাউনের সুপারিশ করা হয়। এতে বলা হয়, যে করেই হোক সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

গত বুধবার রাতে কমিটির ৩০তম সভায় তাই সারা দেশে দুই সপ্তাহ ‘পূর্ণ লকডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সভার সুপারিশ নিয়ে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লার সই করা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কমিটি মনে করে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধিতে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত যে ১৮টি নির্দেশনা জারি হয়েছিল, সেগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। তাই ‘বিধিনিষেধ আরও শক্তভাবে অনুসরণ করা দরকার’।

শয্যাসংখ্যা, আইসিইউ সুবিধা, অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচেষ্ট বলে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেহেতু হাসপাতালের রোগী ভর্তির চাপ বাড়ছে, তাই এখানে সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো দরকার।

সর্বাত্মক লকডাউন যেমন হতে পারে : ওষুধের দোকান ও নিত্যপণ্যের দোকান জরুরি সেবার মধ্যে পড়বে। নিত্যপণ্যের দোকান খোলা রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হতে পারে। আর সরকারের অন্যান্য জরুরি সেবা হলো বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, স্বাস্থ্য, ত্রাণ বিতরণ, স্থলবন্দর, ইন্টারনেট, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আনা-নেওয়া ও এর সঙ্গে জড়িত অফিসগুলো। এগুলোর বাইরে সবই বন্ধ থাকবে।

৫ এপ্রিল থেকে জারিকৃত কঠোর বিধিনিষেধে যা রয়েছে : ৫ এপ্রিল থেকে সড়ক, রেল, নৌ, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। তবে গণপরিবহন উৎপাদন, সেবার ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হচ্ছে না। বিদেশি ও বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য হচ্ছে না। অবশ্য এ বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও গত বুধবার থেকে মহানগরগুলোতে গণপরিবহন (বাস) চলাচল করতে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি সেবা (গ্যাস, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট) কাজে নিয়োজিতরা কাজ করবেন, তাদের পরিবহন চলছে। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস, আদালত, বেসরকারি অফিস শুধু জরুরি কাজ করছে। এদের নিজস্ব পরিবহন চলছে। শিল্পকারখানা, নির্মাণকাজ চলছে। শিল্পকারখানা শ্রমিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএকে শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল করতে হবে বলেও বলা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি (ওষুধ কেনা, দাফন, সৎকার, নিত্যপণ্য কেনা) ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না।

খাবারের দোকান থেকে খাবার কিনে আনা যাবে। দোকানে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা যাবে না। শপিং মল বন্ধ, তবে অনলাইনে কেনাকাটা করা যাবে। কাঁচাবাজার সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে। তবে গতকাল থেকে শপিং মল, মার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ১১ দফা নির্দেশনা দেয়, যা ৫ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত চালু থাকবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এগুলো লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার পছন্দের লিংকের মাধ্যমে সংবাদটি শেয়ার করুন, আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ দেখুন
© All rights reserved © 2021
Design & Development By : JM IT SOLUTION